Wednesday , December 8 2021
কিভাবে সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হবেন

কিভাবে সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হবেন

কিভাবে সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হবেন। সাধারণ জ্ঞান বিষয়টা সাধারণই। ভয় পাওয়ার মতো কোনো  বিষয় নয়। তবু কেউ কেউ ভয় পান। যেকোনো চাকরি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের জন্য বেশ ভালো নম্বর বরাদ্দ থাকে। ৩৬তম বিসিএস পরিসংখ্যান ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী মো. কামাল জানিয়েছেন কিভাবে সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হবেন।

চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের গুরুত্ব একদিকে সব চাকরির প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশে অনেক নম্বর বরাদ্দ থাকে, অন্যদিকে ভাইভা তাে সাধারণ জ্ঞান ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যথাক্রমে ৩০, ২০ ও ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। একটু সচেতন হলেই প্রিলি পরীক্ষায় আপনার প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে এই ৬০ নম্বর। এছাড়া বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে, যা লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতায় বরাদ্দ মোট নম্বর অথবা ইংরেজি, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে বরাদ্দ মোট নম্বরের সমান।

এ ছাড়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষায় যে ৪০ ও ৫০ নম্বরের রচনা বা প্রবন্ধ লিখতে হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা সাধারণ জ্ঞাননির্ভর হয়ে থাকে। একইভাবে ব্যাংক জব পরীক্ষায় ফোকাস রাইটিং/কম্পোজিশন অংশে প্রধানত সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নেরই মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি অন্য সব চাকরি পরীক্ষার প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা-প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও সমসাময়িক ঘটনাগুলো মোট নম্বরের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে রাখে। উল্লেখ্য যে, তুলনামূলক বেশি নম্বরের সাধারণ জ্ঞানে একটু সচেতন ও সতর্ক থাকলেই ভালো করাও সহজ। গণিত, বিজ্ঞান বা ইংরেজিতে যেখানে আগে থেকে মজবুত মৌলিক জ্ঞান না থাকলে ভালো করা কষ্টসাধ্য, সেখানে সাধারণ জ্ঞানে কিন্তু আগে থেকে আপনার মৌলিক জ্ঞান ভালো।

থাকলেও পরিকল্পিত পরিশ্রমে কারো সহযোগিতা ছাড়াই আপনি দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন এবং কিছু তথ্য টপিকভিত্তিক নোট করে পড়লে মনে রাখা যাবে আর ভালো নম্বর তোলা সহজ হবে। সুতরাং ঠিকঠাক গুরুত্ব দিলে চাকরির বাজারে আপনাকে সফল করতে অসাধারণ হয়ে উঠবে এই সাধারণ জ্ঞান।

যেভাবে শিখতে পারেন

 দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষার এক বা একাধিক পত্রিকা পড়তে পারলে ভালো হয়। পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, আন্তর্জাতিক পাতা, অর্থনীতি পাতা ছাড়াও প্রথম ও শেষ পাতা পড়তে হবে।  বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা প্রভৃতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত চোখ রাখতে হবে। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে নিজের মতামত দেওয়া শিখতে হবে ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত কোথাও পেলে তা ডায়েরিতে নোট করে রাখা যেতে পারে।  যেসব বিষয়বস্তু কঠিন মনে হয়, সেগুলো ছন্দ বা সূত্র বানিয়ে মনে রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া নিজের পরিচিত কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করে মনে রাখা যেতে পারে। যেমন আপনার পরিচিত যদি কারোর নাম আকবর থাকে তাহলে সম্রাট আকবর। সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো পরিচিত আকবরের সঙ্গে মিলিয়ে মনে রাখলে পরবর্তী সময়ে ব্রেন সহজে মনে করিয়ে দেবে।  সব ঘটনার তারিখ বা সাল মনে রাখা সহজ নয়। শুধু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তারিখ ও সাল মনে রাখলেই হবে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বের দুটি মানচিত্র সংগ্রহে রাখতে হবে। মাঝে মাঝে মানচিত্রে চোখ বুলিয়ে নিজের পঠিত বিষয়ের সঙ্গে মেলালে স্মৃতিতে থাকবে।  ফেসবুকের বিভিন্ন চাকরির গ্রুপ, পেজ থেকে সাধারণ জ্ঞানের নিয়মিত আপডেট পেতে পারেন। এ ছাড়া শুধু সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য ফেসবুকে General Knowledge preparation IC 569 রয়েছে। সেখানে সাধারণ জ্ঞানের আপডেট, মৌলিক প্রস্তুতিসহ সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন লেখা পোস্ট করা হয়।

সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল, ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই পড়া যেতে পারে। এ ছাড়া বাজারের প্রচলিত ভালো মানের একটা সাধারণ জ্ঞানের গাইড বই ও তথ্যভিত্তিক। মাসিক ম্যাগাজিন পড়তে পারলে কাজে দেবে। আর সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য কালের কণ্ঠ পত্রিকার ‘চাকরি আছে’ পাতায় প্রতি মাসে সাম্প্রতিক মডেল টেস্ট (উত্তরসহ) দেওয়া হয়। বিগত মডেল টেস্ট থেকে বিভিন্ন চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে দেখা গেছে। ৩ বিভিন্ন আলোচনাসভা, সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা করলে ধীরে ধীরে সাধারণ জ্ঞান বাড়বে।

সাধারণ জ্ঞানের বিসিএস প্রিলির সিলেবাস এই সিলেবাসের বিষয়গুলো পড়াশোনা করলে অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশটার প্রস্তুতি হয়ে যাবে।

কি কি কিভাবে পড়তে হবে?

বাংলাদেশ বিষয়াবলি ( মান ৩০)

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি (৬) : প্রাচীনকাল থেকে সমসাময়িক কালের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন; ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬; গণ-অভ্যুত্থান। ১৯৬৮-১৯৬৯; ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন; অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১; ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ; স্বাধীনতা ঘোষনা; মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যাবলি; মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল; মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা; পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ () :

 শস্য উৎপাদন এবং এর বহুমুখীকরণ, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী, উপজাতিসংক্রান্ত বিষয়াদি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি () :

 উন্নয়ন পরিকল্পনা। প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিক, জাতীয় আয়-ব্যয়, রাজনীতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি। ৫।

বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য (৩) :

শিল্পোৎপাদন, পণ্য আমদানি ও রপ্তানীকরণ, গার্মেন্টশিল্প ও এর। সার্বিক ব্যবস্থাপুনা, বৈদেশিক লেনদেন ও অর্থ প্রেরণ, ব্যাংক ও বীমা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের সংবিধান ():

প্রস্তাবনা ও বৈশিষ্ট্য, মৌলিক অধিকারসহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ, সংবিধানের সংশোধনীসমূহ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা (৩) :

রাজনৈতিক দলগুলোর গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুধীসমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা।

 বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা (৩) :

আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসমূহ, আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার।

অন্যান্য (৩) :

বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (মান ২০)

 ১। বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি।

২। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক।

৩। বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাপ্রবাহ।

৪। আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি।

 ৫। আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি।

ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (মান ১০)

১। বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব।

২। অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক), সম্পদের বন্টন ও গুরুত্ব।

৩। বাংলাদেশের পরিবেশ : প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান। চ্যালেঞ্জসমূহ।

৪। বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন : আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন-অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব।

৫। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা : দুর্যোগের ধরন, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুন:

About sujan

Check Also

চাকরির প্রস্তুতি বাংলাদেশর অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু

চাকরির প্রস্তুতি: বাংলাদেশর অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু

বিসিএস, ব্যাংকজব, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতিসহ সকল চাকরির প্রস্তুতি। বাংলাদেশর অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিষয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *